• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ
গার্মেন্টস শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের আন্দোলন অব্যাহত রাখুন, জোরদার করুন
গার্মেন্টস শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের আন্দোলন অব্যাহত রাখুন, জোরদার করুন

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২০  |  অনলাইন সংস্করণ

গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিক ছাঁটাই সর্বদাই করে থাকে তাদের মুনাফার স্বার্থে। কিন্তু করোনার থাবায় তা এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মালিকদের যুক্তি অর্ডার নেই, কাজ নেই তাই শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এ পর্যন্ত ১২৯টি কারখানা থেকে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। এ ছাড়া যাদের কাজের বয়স এক বছর হয়নি বা একটু বয়স্ক শ্রমিকদের ছাঁটাই করছে। দেশের চার হাজারের বেশি কারখানার মধ্যে ৭০ শতাংশ কারখানা থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার শ্রমিক কর্মচ্যুত হয়েছে। আরো লক্ষাধিক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা রয়েছে (তথ্য আমাদের সময়, ১৮ জুন ২০২০)। সমস্ত শ্রমিকদের ২৫% শ্রমিক ছাঁটাই হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। সে হিসেবে ১০ লক্ষ শ্রমিক ছাঁটাই হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে (তথ্য কালের কণ্ঠ, ৮ জুন, ২০২০)।    

গত মে মাসেই গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ১ জুন থেকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছিল। শ্রমিক আন্দোলনের ফলে সরকার থেকে বলা হলো শ্রমিক ছাঁটাই করা হবে না। কারো চাকরি যাবে না। কিন্তু ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে। সরকারের কথা ফাঁকা বুলিতে পর্যবসিত হয়েছে। মালিকরা বিনা বাঁধায় তাদের ছাঁটাই কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারছে। এই কাজটি তারা কোরবানী ঈদের আগেই শেষ করতে যাচ্ছে যাতে শ্রমিকদের বেতন- বোনাস না দিতে হয়। কিন্তু সরকার এক্ষেত্রে কী করছে? কিছুই না। এই করোনা পরিস্থিতির প্রথম দিকে সরকার সমস্ত কিছু বন্ধ ঘোষণা করলেও গার্মেন্টস বন্ধ করেনি। করোনা পরিস্থিতিতে কিভাবে শ্রমিকদের গ্রাম থেকে শহরে আনা-নেওয়া করিয়েছে দেশবাসীর তা জানা। এখন সরকার করোনা মোকাবেলায় রেডজোন এরিয়া নির্ধারণ করেও গার্মেন্টস মালিকদের চাপে ও স্বার্থে তা বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ করছে বিভিন্ন অজুহাতে। সরকার প্রথম দিকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা মালিকদের ঋণ সুবিধা দিলেও তাতে অধিকাংশ শ্রমিক তেমন কোনো সুবিধা পায়নি। এখন শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধে সরকার কোনোরকম পদক্ষেপ নিচ্ছে না। গার্মেন্ট মালিকদেরই স্বার্থরক্ষা করছে। এই করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলাও আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার সাম্রাজ্যবাদ দালাল শাসকশ্রেণির তথা বড় বুর্জোয়াদের স্বার্থরক্ষা করে চলেছে। শাসকশ্রেণির অন্যদলগুলো ক্ষমতায় থাকলেও একই দশা জনগণকে ভোগ করতে হতো। কারণ তারা সকলেই এক গোয়ালের গরু।  

গার্মেন্ট শিল্প হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর একটি শিল্প। সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থেই এই শিল্প গড়ে উঠেছে। আজকে করোনা পরিস্থিতিতে সাম্রাজ্যবাদী অর্থনীতিতে ধ্বস নেমেছে। যার ফলশ্রুতিতেই দেশের গার্মেন্ট শিল্পেও ধ্বস নেমেছে, অর্ডার কমেছে। রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্প-কারখানা ধ্বংস করে শাসকশ্রেণি সাম্রাজ্যবাদ নির্ভরশীল শিল্প কারখানা গড়ে তুুলছে। আজকে আওয়ামী সরকারের রাষ্ট্রায়াত্ত পাটশিল্প ধ্বংস করার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত তারই ধারাবাহিকতা। কৃষিতে সাম্রাজ্যবাদের অনুপ্রবেশ সত্ত্বেও তাতে আত্মনির্ভরশীলতা রয়েছে। সরকারের অব্যবস্থাপনায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গার্মেন্ট শিল্পের মতো কৃষিতে ধ্বস নামেনি। সাম্রাজ্যবাদের উপর নির্ভরশীল এই গার্মেন্ট শিল্প এখন তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়েছে। এ সমস্যা সমাধানের দালাল এই সরকারের হাতে নেই। তাদের সাম্রাজ্যবাদ ও আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়াদের স্বার্থরক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। জনগণকে ধোঁকা দেয়ার বোলচাল ঝাড়লেও সাম্রাজ্যবাদ দালাল শাসকশ্রেণির স্বার্থরক্ষাই তাদের ব্রত।  

তাই শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, বকেয়া বেতন-বোনাসের দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন অব্যাহত রাখুন, জোরদার করুন! সচেতন শ্রমিকদের বুঝতে হবে সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া গার্মেন্টস শ্রমিকসহ সমস্ত শ্রমিক ও শ্রমজীবী জনগণের দুর্ভোগ লাঘব হবে না। আত্মনির্ভরশীল শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা, রক্ষা ও বিকশিত করতে হলে শ্রমিকশ্রেণির আদর্শে ও তাদের নেতৃত্বে সমাজ পরিবর্তনে বিপ্লবী আন্দোলনে সামিল হতে হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের আন্দোলন অব্যাহত রাখুন, জোরদার করুন

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২০  |  অনলাইন সংস্করণ

গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিক ছাঁটাই সর্বদাই করে থাকে তাদের মুনাফার স্বার্থে। কিন্তু করোনার থাবায় তা এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মালিকদের যুক্তি অর্ডার নেই, কাজ নেই তাই শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এ পর্যন্ত ১২৯টি কারখানা থেকে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। এ ছাড়া যাদের কাজের বয়স এক বছর হয়নি বা একটু বয়স্ক শ্রমিকদের ছাঁটাই করছে। দেশের চার হাজারের বেশি কারখানার মধ্যে ৭০ শতাংশ কারখানা থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার শ্রমিক কর্মচ্যুত হয়েছে। আরো লক্ষাধিক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা রয়েছে (তথ্য আমাদের সময়, ১৮ জুন ২০২০)। সমস্ত শ্রমিকদের ২৫% শ্রমিক ছাঁটাই হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। সে হিসেবে ১০ লক্ষ শ্রমিক ছাঁটাই হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে (তথ্য কালের কণ্ঠ, ৮ জুন, ২০২০)।    

গত মে মাসেই গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ১ জুন থেকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছিল। শ্রমিক আন্দোলনের ফলে সরকার থেকে বলা হলো শ্রমিক ছাঁটাই করা হবে না। কারো চাকরি যাবে না। কিন্তু ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে। সরকারের কথা ফাঁকা বুলিতে পর্যবসিত হয়েছে। মালিকরা বিনা বাঁধায় তাদের ছাঁটাই কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারছে। এই কাজটি তারা কোরবানী ঈদের আগেই শেষ করতে যাচ্ছে যাতে শ্রমিকদের বেতন- বোনাস না দিতে হয়। কিন্তু সরকার এক্ষেত্রে কী করছে? কিছুই না। এই করোনা পরিস্থিতির প্রথম দিকে সরকার সমস্ত কিছু বন্ধ ঘোষণা করলেও গার্মেন্টস বন্ধ করেনি। করোনা পরিস্থিতিতে কিভাবে শ্রমিকদের গ্রাম থেকে শহরে আনা-নেওয়া করিয়েছে দেশবাসীর তা জানা। এখন সরকার করোনা মোকাবেলায় রেডজোন এরিয়া নির্ধারণ করেও গার্মেন্টস মালিকদের চাপে ও স্বার্থে তা বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ করছে বিভিন্ন অজুহাতে। সরকার প্রথম দিকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা মালিকদের ঋণ সুবিধা দিলেও তাতে অধিকাংশ শ্রমিক তেমন কোনো সুবিধা পায়নি। এখন শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধে সরকার কোনোরকম পদক্ষেপ নিচ্ছে না। গার্মেন্ট মালিকদেরই স্বার্থরক্ষা করছে। এই করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলাও আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার সাম্রাজ্যবাদ দালাল শাসকশ্রেণির তথা বড় বুর্জোয়াদের স্বার্থরক্ষা করে চলেছে। শাসকশ্রেণির অন্যদলগুলো ক্ষমতায় থাকলেও একই দশা জনগণকে ভোগ করতে হতো। কারণ তারা সকলেই এক গোয়ালের গরু।  

গার্মেন্ট শিল্প হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর একটি শিল্প। সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থেই এই শিল্প গড়ে উঠেছে। আজকে করোনা পরিস্থিতিতে সাম্রাজ্যবাদী অর্থনীতিতে ধ্বস নেমেছে। যার ফলশ্রুতিতেই দেশের গার্মেন্ট শিল্পেও ধ্বস নেমেছে, অর্ডার কমেছে। রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্প-কারখানা ধ্বংস করে শাসকশ্রেণি সাম্রাজ্যবাদ নির্ভরশীল শিল্প কারখানা গড়ে তুুলছে। আজকে আওয়ামী সরকারের রাষ্ট্রায়াত্ত পাটশিল্প ধ্বংস করার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত তারই ধারাবাহিকতা। কৃষিতে সাম্রাজ্যবাদের অনুপ্রবেশ সত্ত্বেও তাতে আত্মনির্ভরশীলতা রয়েছে। সরকারের অব্যবস্থাপনায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গার্মেন্ট শিল্পের মতো কৃষিতে ধ্বস নামেনি। সাম্রাজ্যবাদের উপর নির্ভরশীল এই গার্মেন্ট শিল্প এখন তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়েছে। এ সমস্যা সমাধানের দালাল এই সরকারের হাতে নেই। তাদের সাম্রাজ্যবাদ ও আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়াদের স্বার্থরক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। জনগণকে ধোঁকা দেয়ার বোলচাল ঝাড়লেও সাম্রাজ্যবাদ দালাল শাসকশ্রেণির স্বার্থরক্ষাই তাদের ব্রত।  

তাই শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, বকেয়া বেতন-বোনাসের দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন অব্যাহত রাখুন, জোরদার করুন! সচেতন শ্রমিকদের বুঝতে হবে সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া গার্মেন্টস শ্রমিকসহ সমস্ত শ্রমিক ও শ্রমজীবী জনগণের দুর্ভোগ লাঘব হবে না। আত্মনির্ভরশীল শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা, রক্ষা ও বিকশিত করতে হলে শ্রমিকশ্রেণির আদর্শে ও তাদের নেতৃত্বে সমাজ পরিবর্তনে বিপ্লবী আন্দোলনে সামিল হতে হবে।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র